অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ

শ্লোগান দিয়ে যায় চেনা
গৌতম রায়
                    রাজনীতির ডাইমেনশনের যেমন সময়ের নিরিখে অদল বদল ঘটে , তেমনি বদলে যায় রাজনৈতিক আন্দোলনের আদল।জাতীয় আন্দোলনের কালের রাজনীতির ধারা স্বাধীনতার পরে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে।রাজনৈতিক আন্দোলনের গতিপ্রবাহের বদলের ক্ষেত্রে আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে বামপন্থীরা যে ধারাটিকে সংযুক্ত করেছেন , প্রথম অবস্থায় মানুষের একটা অংশের ভিতর তা নিয়ে নানা কারনে কিছু প্রশ্ন থাকলেও , সেই মানুষগুলোই ধীরে ধীরে বুঝতে পেরেছিলেন, সেইসব আন্দোলনের গতিপ্রকৃতির যৌক্তিকতা।
                            জাতীয় আন্দোলনকালের শেষ পর্যায়ে , গত শতকের চারের দশক থেকে ব্রিটিশ বিরোধী গণসংগ্রাম যে পথে পরিচালিত হতে শুরু করেছিল, তা আমাদের জাতীয় বুর্জোয়া নেতৃত্বের কাছে এটা দিনের আলোর মতো পরিস্কার করে দিয়েছিল যে , আন্দোলনের গতিপথের রাশ বামপন্থীদের হাতে চলে যাচ্ছে।ভারত ছাড়ো আন্দোলন থেকে নৌ বিদ্রোহ – সেদিকেই গতিপথ নির্দেশ করছিল।দেশভাগ মেনে নিয়ে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পিছনে জাতীয় বুর্জোয়া নেতৃত্বের ভিতরে এই বামপন্থী জুজু বেশ ভালো রকম ভাবেই যে কাজ করছিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
                           ভঙ্গবঙ্গে খাদ্যের দাবি থেকে শুরু করে এক পয়সা ট্রাম ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে যে গণবিক্ষোভ তার ভিত্তিভূমিতে কিন্তু সেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মানসিকতার একটা নির্যাস খুব বড়ো ভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল।স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রশক্তি এতো রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর ও যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষার্থেই আত্মনিবেদিত- এই সহজ সত্যটি বামপন্থীরা তাঁদের দৈনন্দিনতার ভিতর দিয়ে সাধারণ মানুষকে খুব সফল ভাবে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন সেদিন।
                       একদা ব্রিটিশের শাসনযন্ত্র কে সক্রিয় রাখতে কর্মতৎপর জমিদার , জোতদার শ্রেণী স্বাধীন ভারতেও নিজেদের স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখতে আত্মনিবেদিত ছিল শাসকের।তার ফলে যে কৃত্রিম খাদ্য সঙ্কট তৈরি হয়েছিল তার স্বরূপ দেশভাগের পর ক্ষুব্ধ স্বদেশভূমিকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিল।
                           ট্রামের ভাড়া এক পয়সা বৃদ্ধির ভিতর দিয়ে যে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হওয়া ব্রিটিশ কোম্পানীর স্বার্থ ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে- এটা মানুষকে বোঝাতে পেরেছিল বামপন্থীরা।শ্রেণী তত্ত্ব না বুঝেও শ্রেণীস্বার্থের তাগিদে মানুষ খুব সহজে বুঝেছিলেন, চিনেছিলেন শত্রু- মিত্র কে।
                             এই কালপর্বে রাজনীতির অঙ্গনে অনেক শ্লোগান তৈরি হয়েছিল।সেই শ্লোগানগুলি উঠে এসেছিল সাধারণ মানুষের জীবনের বারমাস্যা থেকেই।তেভাগার লাঙল যার জমি তার শ্লোগানের ভিত্তি ভূমি যেমন ছিল পেটের লড়াই , তেমনি ই ট্রাম ভাড়া বৃদ্ধির কালের লড়াই পর্বের শ্লোগান ও উঠে এসেছিল প্রধানত মধ্যবিত্তের যুগযন্ত্রণার ভিতর দিয়ে।
                       এই সময়কালে শ্লোগানের ক্ষেত্রে অতি নাটকীয়তা দেখা যেত না।নেতা থেকে অতি সাধারণ কর্মীর আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্তাতে কোনো মেকিপনা ছিল না।তাই সেদিন কাউকেই দেখা যায় নি খাতা দেখে শ্লোগান দিতে বা শ্লোগানকে অতি নাটকীয় করে তুলে একটা আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করতে।
                        সময় বদলায়।সময়ের সাথে আন্দোলনের অভিধারাও বদলায়।বদল হয় রুচির ও।একদম গ্রামের মেঠো ভাষা কে আজ যেমন শহুরে মৌতাতে আমরা শ্লীল, অশ্লীল বলে দেগে দিই, ছয় – সাতেরশ দশকের পরিমন্ডল টা কিন্তু তখন আদৌ সেরকম ছিল না।তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থান, আজকের বাংলাদেশে উনসত্তরের আইয়ুব খান বিরোধী গণ অভ্যুত্থানের শ্লোগান ছিল;” আইয়ুব খানের হাতে হ্যারিকেন , পোঁদে বাঁশ।”
                         নিতম্বের সংসদীয় উচ্চারণ( আইনসভার ভিতরে ‘ মিথ্যে ‘ শব্দটি বললে আইন অনুযায়ী অধ্যক্ষ সেটা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিতে পারেন।কিন্তু এই ‘ মিথ্যে’ শব্দটিকেই যদি কেউ ‘ অসত্য’ হিশেবে উচ্চারণ করেন, সেটি সংসদীয় বিধি ভঙ্গের ভিতর পড়ে না) উহ্য রেখে তার সাবালটার্ন উচ্চারণ নিয়ে কিন্তু আজ ও বাংলাদেশের এলিটদের পর্যন্ত মাথা ব্যথা নেই।তাই ‘ চুদুর বুদুর’ এর মতো একদম গ্রাম্য ভাষা সে দেশের সংসদে উচ্চারিত হয়।তা নিয়ে হাস্যরোল ওঠে।আজকের প্রজন্মের ভাষায় ‘ খিল্লি’ হয়।কিন্তু সেসব নিয়ে সেদেশের ‘ স্পর্শ বাঁচায়ে পুণ্যের পথে হাঁটা’ র দল ‘ গেল, গেল’ রব তোলে না।
                       আমাদের রাজ্যে বাহাত্তরের নির্বাচনে মানিকতলা কেন্দ্রে সি পি আই র প্রার্থী ছিলেন ইলা মিত্র।সি পি আই ( এম) এর অনিলা দেবী।সি পি আই সেদিন দেওয়াল গুলো ছয়লাপ করেছিল;” প্রমোদ দাশগুপ্তের কোলে , অনিলা দেবী দোলে’ তে।লিঙ্গ নির্যাতনমূলক রাজনৈতিক শ্লোগান আমাদের রাজ্যে সম্ভবত সেই প্রথম।তার আগে ছয়ের দশকে বামপন্থীরা অতুল্য ঘোষের অন্ধত্বকে ঘিরে চটুল শ্লোগান তৈরি করলেও কোনো মহিলাকে ঘিরে অসম্মান জনক শ্লোগান কখনো বাহাত্তরের বিধানসভা ভোটের আগে আমাদের রাজ্যে হয় নি।
                        যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ের ঘটনাবলীকে কেন্দ্র করে হিন্দুত্ববাদী ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ গত কাল তাঁদের মিছিলে , তাঁদের আরাধ্যা ‘ ভারতমাতা’ কে ঘিরে যে ধরণের চটুল শ্লোগান দিয়েছে, তার প্রেক্ষিতে আমাদের রাজ্যের এবং প্রতিবেশি রাষ্ট্র বাংলাদেশের রাজনৈতিক শ্লোগানের প্রেক্ষাপট একটু পাঠকের সামনে তুলে ধরবার চেষ্টা করলাম।
                   দেশ কে ‘ মা!’ হিশেবে দেখার যে ঐতিহ্য, সেই ভাবধারার সঙ্গে দেশমাতৃকাকে কার্যত একটা মজার উপকরণে পরিণত করে শ্লোগানের নামে যাঁরা রং বাজি করলেন, আসলে দেশ কে নিজের গর্ভধারিণীর সঙ্গে একাত্ম করে নেওয়ার যে লড়াই, আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের কালের সেই লড়াইয়ের সঙ্গে যে এঁদের কোনো সম্পর্ক ছিল না, আজ ও যে জাতীয় আন্দোলনের বীর যোদ্ধাদের প্রতি কতোখানি উপহাসসূচক মানসিকতা তাঁরা বয়ে বেড়ান- সেটাই তাঁরা এই ;” চেঁচায় চেঁচায় চেঁচায় মাতা, ভারতমাতা, ভারতমাতা। তেরি মাতা, মেরি মাতা  ভারতমাতা ভারতমাতা’ শ্লোগানের ভিতর দিয়ে দেখিয়ে দিল।
                            এ বি ভি পির এই শ্লোগান নিয়ে যতোটা অরাজনৈতিক আলোচনা হওয়া দরকার, ততোটা হচ্ছে না।খেউরের বদলে খেউর কোনো সমাধানের রাস্তা নয়।এ বি ভি পির জমায়েত থেকে চটুল শ্লোগান উঠেছে বলে আর এস এসের এই শাখা সংগঠন টির চরম ফ্যাসিবাদী, রাজনেতিক সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী, জাতিবিদ্বেষী মানসিকতাকে এতোটুকু চটুল ভাবনার জারকে ভাবলে চলবে না।
                                এ বি ভি পিকে জরুরি অবস্থা বিরোধী আন্দোলন কালে অগ্রাধিকার দিয়ে গান্ধী হত্যাকারী হিন্দুত্ববাদী শক্তিকে সামাজিক জলচল করবার যে পরিস্থিতি জয়প্রকাশ নারায়ণ তৈরি করে দিয়েছিলেন, তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের রাজনীতির সাম্প্রতিক প্রেক্ষিতে আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি ।সদ্য প্রয়াত অরুণ জেটলি এই এ বি ভি পি র নেতা, কর্মী হিশেবেই জয়প্রকাশের সৌজন্যে জরুরি অবস্থা বিরোধী আন্দোলনের জেরেই নিজেকে মেলে ধরতে শুরু করেছিলেন।
                              আর এস এসের রাজনৈতিক কর্মসূচি ‘ সাম্প্রদায়িকতা’ তাদের ছাত্র সংগঠন এ বি ভি পি র ও একভাত্র কাঙ্খিত বস্তু।সাতের দশকের মধ্যভাগ থেকে ভারতীয় রাজনীতিতে রাজনৈতিক হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তির ‘ সামাজিক প্রযুক্তি’ অন্যতম প্রধান কারিগর হিশেবে নিজেদের মেলে ধরা এ বি ভি পি শিক্ষা বিজ্ঞানকে অপ বিজ্ঞানের সমার্থক করে সঙ্ঘের কর্মসূচিকে প্রসারিত করার জন্যে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
                           সাতের দশক থেকে আমাদের রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে ধ্যানেশ নারায়ণ চক্রবর্তী , বিষ্ণুকান্ত শাস্ত্রী, রাধেশ্যাম ব্রহ্মচারী র মতো কিছু মানুষ ছাত্রছাত্রীদের নিত্যনৈমিত্তিক পড়াশুনার সঙ্গে অত্যন্ত কৌশলে হিন্দুত্বকে মিশিয়ে দিতে প্রাচীন ভারতের ইতিহাস , গৌরব ইত্যাদি পরিবেশনের নামে রাজনৈতিক হিন্দু অস্মিতাকে উসকে দিতেন।কালিদাস পড়াতে গিয়ে ধ্যানেশবাবু উল্লেখ করতেন তমসা নদীকে ঘিরে মধ্যপ্রদৃশের সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে র রাজনৈতিক হিন্দু ভাবাবেগ কে।পাঠক মনে রাখবেন, এই অবিভক্ত মধ্যপ্রদেশেই কিন্তু এ বি ভি পি সঙ্ঘের বর্তমানের অত্যন্ত শক্তিশালী সংগঠন ‘ বনবাসী কল্যাণ আশ্রম’ তৈরিতে বিশেষ রকমের সক্রিয় ছিল।
                                আমাদের দুর্ভাগ্য , ধ্যানেশবাবুদের মতো লোকেদের রাজনৈতিক হিন্দুত্বকে এ রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত করার এই গোপন পরিকল্পনা সম্পর্কে আমরা হয় সঠিক ভাবে ওয়াকিবহাল ছিলাম না, কিংবা সেই দৃষ্টিভঙ্গীকে আদৌ গুরুত্ব দিই নি।ধ্যানেশবাবুর আপাত ছাত্রবৎসল আচরণ, মধুর ব্যবহার – এ সবে অনেক প্রগতিশীল মানুষ ও মোহবিষ্ট যে ছিলেন না- তা কিন্তু বলা যায় না।এক ই কথা প্রযোজ্য বিষ্ণুকান্ত শাস্ত্রী সম্পর্কেও।এশিয়াটিক সোসাইটির কর্ম সমিতিতে যখন বৈজ্ঞানিক জ্যোতিষের প্রচারক রাধেশ্যাম ব্রহ্মচারী নিয়োজিত হন, তখন ও কিন্তু প্রগতিশীল শিক্ষা মহল তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখান নি।
                        সঙ্ঘ এই প্রেক্ষিতের উপর দাঁড়িয়ে গোটা দেশের মতোই আমাদের রাজ্যেও তাদের আত্মঘাতী দর্শনকে ছড়িয়ে দিয়ে , সামাজিক বিভাজনকে তীব্র করে তুলে , নিজেদের ‘হল্ট স্টেশন ‘ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শক্তিশালী করার ভিতর দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি বিজেপির রাজনৈতিক এবং সংসদীয় ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সর্বাত্মক ভাবে কাজ করে গেছে।সেই কাজের ই কিন্তু অংশ এ বি ভি পির সাম্প্রতিক আস্ফালন।তা বলে সেই সংগঠনের একটি অংশের কিছু শ্লোগানকে ট্রোল করে যদি আমরা সংগঠনটির চিন্তাধারা সমাজের বুকে বিষের মতো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতাকে দেখি, তাহলে খুব ভুল করব।
                           কেন্দ্রে বিজেপির ক্ষমতা, রাজ্যে তাঁদের আঠারো জন সাংসদ , মমতার দুঃশাসন– এসব দেখে ভিড় বাড়ানো এ বি ভি পি কর্মীদের দেখে যদি আমরা সঙ্ঘের এই রাজনৈতিক সংগঠনটি সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে আসি- সেটি ও মারাত্মক ভুল হবে।
                           যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাবুল সুপ্রিয় র ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ বি ভি পি র মিছিলে সস্তা শ্লোগান ঘিরে ওদের রাজনৈতিক কৌশল টি এখন ও পরিস্কার নয়।তবে এ কথা মনে করার কোনো কারন নেই যে, এ বি ভি পি গোটা দেশের মতোই আমাদের রাজ্যেও যে লুম্পেনাইজড রাজনীতির প্রাদুর্ভাব ঘটাচ্ছে- এই কৌশলের পিছনে আর এস এসের কোনো অভিসন্ধি নেই।এ বি ভি পির রাজনীতি যারা আন্তরিক ভাবে করে , তাদের বেশিরভাগ ই সঙ্গের রাজনৈতিক আদব কায়দার সঙ্গে খুব ভালো ভাবেই সম্পৃক্ত।এমন কি এ বি ভি পির নেতা , কর্মীদের একটা বড়ো অংশ নিয়মিত ‘ শাখা’ তে অংশগ্রহণ করে।
                      তাই বিদ্যাসাগর কলেজে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা থেকে শুরু করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক তান্ডব বা মিছিল কে কেন্দ্র করে সস্তা দরের শ্লোগান– কোনো বিষয় ই যে সঙ্ঘ রাজনীতি ব্যাতিরেকে– এমনটা ধরে নেওয়ার কোনো কারন নেই।
                        সঙ্ঘ কি চাইছে কমিউনিষ্ট দের বিরুদ্ধে হুলিগানিজিমকে সামনে এনে কমিউনিষ্টদের উপর বাড়তি চাপ, ভয় তৈরি করতে? তাই তারা অছাত্র, হুলিগান্টদের তাদের ছাত্র সংগঠনে বেশি বেশি করে সামনে আনতে? এটাও কি সঙ্ঘের কৌশল যে, তৃণমূলের উপর বিরক্ত মানুষদের একটি অংশ যাতে পেশি শক্তি নির্ভর রাজনৈতিক হিন্দুদের উপরে একটু বেশি ভরসা আগামী বিধানসভা ভোটের এই এতো আগে থেকেই করতে শুরু করে দেয়– এটা তার ই একটা কৌশল?
                     নরম- গরমে সঙ্ঘ তাদের কর্মীদের তৈরি করলেও প্রত্যক্ষ ভাবে সঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে তৈরি হওয়া স্বয়ংসেবক, প্রচারক, কর্মী, সমর্থকদের ভিতরে একটা আপাত বৈষ্ণবোচিত আচরণ থাকে।খুব চট করে তারা সামাজিক ক্ষেত্রে উদ্ধত আচরণ কিন্তু দেখায় না।দিল্লি সহ গোটা গোবলয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে যে হুলিগানিজিম এ বি ভি পি দেখায় – সেটা ক্ষমতা দখলের আস্ফালন।কিন্তু এ বি ভি পি থেকে কি ধরনের কর্মী পরবর্তী কালে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে বিশিষ্ট্য হয়ে ওঠেন তা বোঝার জন্যে সদ্য প্রয়াত অরুণ জেটলি বা সুষমা স্বরাজের কথা আমাদের মনে রাখা দরকার।
                            

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *