সঙ্ঘ- বিজেপির সাম্প্রতিক ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে


গৌতম রায়
সদ্যসমাপ্ত(২০১৯) লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর আমাদের রাজ্যের সামাজিক পরিবেশের ক্ষেত্রে এক ধরনের অদলবদলের সম্ভাবনা খুব তীব্র হয়ে উঠতে শুরু করেছে ।সাধারণভাবে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে বাঙালির ভেতরে খাদ্যাখাদ্য বিচার নিয়ে খুব একটা মাথা ব্যথা কোনদিনই ছিল না। হিন্দু সম্প্রদায়ের যেমন গোমাংস কে ঘিরে কোন আদেখলেপনা ছিলনা ,তেমনি মুসলমান সম্প্রদায়ের ভেতরেও ধর্মীয় বিধি বিধানের বাইরে গিয়ে অন্য খাদ্য খাওয়া নিয়ে কোনো অতিরিক্ত আবেগ কিছু ছিল না।
হিন্দু সম্প্রদায়ের ভেতরে খাদ্যাখাদ্য বিচার কে কেন্দ্র করে কোনোদিন কোনোরকম ধর্মীয় ভাবাবেগের খেলা কিন্তু আমাদের এই রাজ্যে ছিল না। পেটুক বাঙালির খাদ্যাখাদ্য বিচারের ক্ষেত্রে, ধর্মীয় আবেগ অপেক্ষা খাবার টির রসনা জনিত বিষয়টি ই সব থেকে বেশি গুরুত্ব পেতো।
বাংলায় পবিত্র ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারের আগে এখানকার অধিবাসীদের রসনার যে পর্যায়ক্রম ছিল ,তাকে এখন আর আলাদা করে কিছু অনুভব করতে পারা যায় না।বাংলায় মুসলমান সমাজের আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তারের আগে, এখানকার হিন্দু বাঙালিরা পিয়াজ, রসুনের ব্যবহার সেভাবে জানতেনই না ।
মৎস্য প্রিয় বাঙালির খ্যাতি যুগ যুগ ধরে আছে ,কিন্তু সেই মাছ কে নানা রকম স্বাদে রান্নার জন্য পিয়াজ, রসুন সহ বিভিন্ন রকমের মসলার ব্যবহার– এটি মুসলিম আধিপত্য বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে বাঙালির কাছে তেমন একটা পরিচিত ছিল না ।আজও যেমন দেখতে পাওয়া যায় ,পূর্ববঙ্গের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে বাঙালি ,যাঁদের এককথায় ‘বাঙাল ‘বলা হয় ,তাঁদের ভিতর মাছ রান্নার ক্ষেত্রে পিয়াজ, রসুন ইত্যাদি ব্যবহারের যে আধিক্য রয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি, হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে যাঁদেরকে ‘ঘটি’ বলা হয় ,তাঁদের ভিতর কিন্তু মাছ রান্নার ক্ষেত্রে পেঁয়াজ-রসুন ব্যবহারের সেই আধিক্য নেই।
এমনকি পশু মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রেও অতি প্রাচীন কালের বাঙালীদের ভেতরে সেই রান্না কে উপাদেয় করার জন্য, রসনা তৃপ্তির তাগিদে পিয়াজ, রসুনের ব্যবহার কিন্তু সেভাবে প্রচলিত ছিল না। মাংস রান্নাতে পিয়াজ, রসুন ইত্যাদির ব্যবহার কিন্তু মুঘল সংস্কৃতির অবদান ।এখনও বহু বিশ্বাসী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ,বিভিন্ন পুজো উপলক্ষে বলির পশু যে রান্না করেন, সেই রান্নায় তাঁরা পিয়াজ, রসুন ব্যবহার করেন না।দুর্গাপ্রসন্ন পরমহংস নামক এক হিন্দু গুরু আছেন, যাঁর অনুগামীরা আজ ও পিঁয়াজ, রসুন ছাড়া রান্না করা মাংসকে কার্যত নিরামিষ বলে গণ্য করেন।
এইযে বহুত্ববাদী, বৈচিত্র্যময়,সমন্বয়ী সংস্কৃতি ক্রমশ বাংলায় হিন্দু মুসলমান দুটি সম্প্রদায়কে পরস্পর পরস্পরের কাছাকাছি এনেছে ,পরস্পরের সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ,ধর্মীয় বিশ্বাসের সমন্বয়ে একটি মিশ্র সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, এই মিশ্র সংস্কৃতি কে সবদিক থেকে বিনষ্ট করা ,বহুত্ববাদী চিন্তা-চেতনাকে সব দিক থেকে ধ্বংস করার এক মারাত্মক প্রবণতা সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক হিন্দু সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী শক্তি এই পশ্চিমবঙ্গের বুকে চালাতে শুরু করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে লোকসভার ৪২ টি আসনের মধ্যে যে ১৮ টি টি আসনে বিজেপি জিতেছে ,সেই আসনগুলির প্রত্যেকটি জায়গায় রাজনৈতিক হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই প্রচার চালানো হচ্ছে যে ,আমাদের এখানে পাঁঠা ,মুরগি নির্বিশেষে মাংস বিক্রেতারা সবাই মুসলমান এবং তাঁরা তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী ,সব সময় তাঁদের দোকানে হালাল করা মাংস বিক্রি করেন ।
এইসব মুসলমান মাংস বিক্রেতারা হালাল করা মাংস হিন্দুদের বিক্রি করার মধ্যে দিয়ে হিন্দুদের জাতে মারবার একটা নোংরা ষড়যন্ত্র করছে– এই ধরনের অসভ্য বর্বরের মত প্রচার যে ১৮ টি লোকসভা কেন্দ্রে এ রাজ্য থেকে বিজেপি জিতেছে ,তার প্রত্যেকটিতেই রাজনৈতিক হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তির নগ্নভাবে করে চলেছেন। তার বাইরে যে কেন্দ্রগুলিতে তাঁরা জেতেনি ,অথচ ‘প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িক ‘ শক্তির বদান্যতায় সেই সব কেন্দ্রগুলিতে তাঁরা একটা ভালো রাজনৈতিক মতাদর্শগত ভিত্তি তৈরি করে নিতে পেরেছেন, সেইসব কেন্দ্রগুলোতেও এই মুসলমান মাংস বিক্রেতাদের হালাল করা মাংস বিক্রির মধ্যে দিয়ে ,মুসলমান মাংস বিক্রেতারা হিন্দুদের জাত নষ্ট করছে –এরকম মারাত্মক সাম্প্রদায়িক প্ররোচনামূলক প্রচার বিভৎসভাবে চালানো হচ্ছে।
এই প্রচারের মূল উদ্দেশ্য কিন্তু হলো ;অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা ,আধুনিক শিক্ষার সুযোগ না পাওয়া, বিজ্ঞানমুখী ভাবনার শরিক হতে না পারা মুসলমান সমাজের একটা বড় অংশ ,যাঁরা কোনোরকম ভাবে কায়িক শ্রমের দ্বারা দুবেলা, দুমুঠো ভাত জোগাড়ের চেষ্টা করে চলেছেন, সেই সব মানুষদের মুখ থেকে ভাত কেড়ে নেওয়া।
আরএসএস এবং তাদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি ও হরেক রকমের তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো গত ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রথম দফায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুসলমানদের সরাসরি সব সময় প্রাণে না মেরে, তাঁদের ভিতে মারার উপর সবথেকে বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছে ।
নরেন্দ্র মোদির প্রথম দফার প্রধানমন্ত্রীত্ব কালে উত্তরপ্রদেশের কইরানাকে ঘিরে অসভ্য বর্বর হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তির সেই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক পদক্ষেপ আমরা প্রথম দেখেছিলাম। সেই পদক্ষেপ নরেন্দ্র মোদী র প্রথম দফার শাসনকালে ক্রমশ তীব্র হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসবার পর ,মুসলমান সম্প্রদায় কে ভাতে মারার এই নোংরা ষড়যন্ত্র আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের পর ,পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে এই মুসলমান মাংস বিক্রেতাদের ঘিরে ধর্মীয় আবেগ সম্পৃক্ত যে ধরনের প্রচার রাজনৈতিক হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তি করে চলেছে, সেই প্রচার তাদের কেন্দ্রীয় স্তরের পক্ষ থেকে মুসলমানদের ভাতে মারার নোংরা গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রেরই একটি জ্বলন্ত অংশ।
ভোজন প্রিয় বাঙালি, হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে কোনোদিনই এই বিষয়টি নিয়ে এতোটুকু মাথাব্যথা দেখায়নি। রসনা তৃপ্তির তাগিদে তাঁরা পাঁঠা বা মুরগির মাংস, যাই কিনে আনুন না কেন, সেই মাংস বিক্রেতার জাত ধর্ম কি , এই বিষয়টি নিয়ে এতোটুকু ও আগ্রহ তাঁরা দেখান নি।
মাংস বিক্রেতা ধর্মবিশ্বাসে হিন্দু ,না মুসলমান এ নিয়ে ক্রেতার ভাবনা কিসের? সেই মাংস বিক্রেতা যদি ধর্মবিশ্বাসে মুসলমান হয়েও থাকেন, সে নিয়ে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ,বাঙালির এতোদিন কোনো মাথা ব্যথা ছিল না। সেই বাঙালি কেই এখন হিন্দু-মুসলমানে ভাগ করে, হিন্দু বাঙালি হিশেবে দেখিয়ে তাঁকে উসকে দেয়া হচ্ছে মাংস বিক্রেতার ধর্ম পরিচয় ঘিরে ।
মাংস বিক্রেতা যদি মুসলমান হয়েও থাকেন ,যদি তিনি তাঁর ধর্মের গোঁড়া বিশ্বাসকে প্রাধান্য দিয়ে বিক্রির সময়ে পশু কাটার আগে হালাল করে কেটে মাংস বিক্রি করে থাকেন, হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে যেসব ক্রেতারা এতোকাল ধরে সেই মাংস কিনতেন, এ নিয়ে তাঁদের কিন্তু আদৌ কোনো মাথাব্যথা ছিল না।
এখন কিন্তু আলাদা করে ক্রেতাকে হিন্দু ক্রেতা হিশেবে নিজেকে দেখতে শেখানো হচ্ছে।এটা হচ্ছে তাঁর চিন্তা চেতনায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া তাগিদে যে, মুসলমান মাংস বিক্রেতা মাত্রেই নিজের ধর্মের রক্ষণশীল মতাদর্শের প্রতি আনুগত্য রেখে বিক্রি করার জন্যে যে, সে নিজের ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে কাজ করছে।
এই আড়াই প্যাঁচের মাংস খেয়ে হিন্দুরা কেন জাত খোয়াবেন? এমন মারাত্মক প্ররোচনামূলক ,আত্মঘাতী প্রচার কিন্তু একটা নীরব সন্ত্রাসের মতো পশ্চিমবঙ্গের আনাচেকানাচে চালাচ্ছে হিন্দু সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী শিবির। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় ,রাজনৈতিক হিন্দু সাম্প্রদায়িক শিবিরের পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ভেতরে বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে, নাগপুরী রাজনৈতিক হিন্দু সংস্কৃতিকে কায়েম করার এই গভীর নোংরা হিসহিসে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক দলই এখনো পর্যন্ত সক্রিয় ভাবে কোনো রকম প্রতিরোধ ,প্রতিবাদ গড়ে তুলছে না।
হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তির এই জঘন্য খেলা সম্বন্ধে যাঁদের সর্বপ্রথম প্রতিবাদ-প্রতিরোধ দৃঢ় করা প্রয়োজন, সেই বামপন্থীরা ,সাম্প্রদায়িক শক্তির এই ধরনের নোংরা ষড়যন্ত্র সম্পর্কে কতখানি অবহিত তা নিয়ে একটা বড়ো রকমের সংশয় কিন্তু থেকেই যায় ।কারণ, সমাজের যে অংশের ভেতরে ঢুকে, কার্যত রাজ্যের শাসক দলের লোকেদের কেও প্রভাবিত করে ,কেন্দ্রের শাসক দলের সঙ্গে কোনো না কোনো ভাবে যুক্ত শক্তি, গোটা পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ভাতে মারার জন্য এই নোংরা ষড়যন্ত্র করছে, সেই অংশগুলির ভেতরে অতীতের মতো কিন্তু বামপন্থীদের এখন আর রাজনৈতিক, সামাজিক সংযোগ ,সম্পর্ক প্রায় নেই বললেই চলে।
এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে যে মানুষটা সামাজিক গণমাধ্যমেরষ পাতায় সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে নানা ধরনের পোস্ট করছেন কিংবা বামপন্থীদের সভা-সমিতিতে থাকছেন ,এমনকি মিছিলে হাঁটছেন, সেই মানুষটার কাছেই যখন রাজনৈতিক হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তি, নিজেদের হিন্দু সাম্প্রদায়িক ঘনিষ্ঠতাকে আড়ালে রেখে ,মুসলমান মাংস বিক্রেতাদের এই’ আড়াইপ্যাঁচ ‘ মাংস বিক্রির গল্পটা করে হিন্দুদের জাত খোয়ানোর বিষয়টি তুলছে, প্রকাশ্যে বামপন্থী পরিচয় দেওয়া মানুষজনের ভেতর, বেশিরভাগই কিন্তু এ নিয়ে কোনোরকম সোচ্চার প্রতিবাদ করছেন না।
তাঁদের মধ্যে কি সত্যিই এই ধরনের কোনো ধারনা কার্যকরী হতে শুরু করেছে যে, যদি সত্যিই কোনো মুসলমান মাংস বিক্রেতার হাতে তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের ভেতর দিয়ে বিক্রি হওয়া মাংস তাঁরা খরিদ করেন, তাহলে তাঁদের বাপ- পাতেমর চৌদ্দ পুরুষের জাত ধর্ম বিপন্ন হওয়ার মতো কোনো পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে? এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্য যে, জাতীয় আন্দোলনের কাল থেকে বামফ্রন্ট সরকারের শেষ দিন পর্যন্ত সামাজিক জাগরণের স্বার্থে বামপন্থীরা যে ধরনের সক্রিয়তার পরিচয় রেখেছিলেন, সেগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমাজ জীবনের গভীরে সেভাবে শিকড় বিস্তার করতে পারেনি। ফলে, খুব সহজেই বামপন্থীরা শাসন ক্ষমতা থেকে সরে আসার পর ,সামাজিক পরিমণ্ডলে ‘প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িক ‘ শক্তির আগ্রাসন কে কাজে লাগিয়ে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি ,তা সে হিন্দু বা মুসলমান যে ধর্মেরই হোক না কেন, সামাজিক স্তরে ,বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে, সমন্বয়বাদী ধারাকে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে খুব সহজেই লাভবান হতে শুরু করেছে।
যে কোনো সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্রের ভিতরেই এক ধরনের অর্থনৈতিক আগ্রাসী মানসিকতা থাকে।’৪৬ সালের কলকাতার দাঙ্গাকে কেন্দ্র করে সংবাদমাধ্যম লুঠতরাজের জন্যে এককভাবে মুসলমান সম্প্রদায়কে দায়ী করলেও এই দাঙ্গার ‘ ফসল’ ঘরে তুলতে সেদিনের চন্দননগরের গুন্ডা, যিনি পরবর্তীকালে বামফ্রন্টের মন্ত্রীও হয়েছিলেন( মার্কসবাদী ফরোয়ার্ড ব্লক দলের), সেই রাম চ্যাটার্জীর চরম মুসলিম বিদ্বেষী অবস্থান, বেছে মুসলমানদের বাড়ি,ঘর,দোকান- পাট লুঠ তরাজের ঘটনা কিন্তু কালের স্রোতে চাপা ই পড়ে গেছে।চন্দননগর এবং গঙ্গার অপর পাড় ভাটপাড়া- কাঁকিনাড়াতে গরিব মুসলমান চটকল শ্রমিকদের রাম চ্যাটার্জী আর তার ভাটপাড়ার শাগরেদ অক্ষয়, যে নারকীয় বিভৎসতা চালিয়েছিল, আড়াই প্যাচের মাংস নিয়ে আজকে রাজ্যব্যাপী যে প্রচার চলছে, তা যেন সেইসব স্মৃতিকেই ফিরিয়ে আনছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *