ভাটপাড়া আর কতোকাল পণ্য হতে থাকবে?


গৌতম রায়
ভাটপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত হিন্দি ভাষী কাঁকিনাড়া অঞ্চলটি সদ্য সমাপ্ত লোকসভা ভোটের সময়কাল থেকেই রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত।বিশেষ করে ভাটপাড়া বিধ্নসভার উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখানকার পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।বেশ কয়েকজন নিরীহ ,দিন আনা- দিন খাওয়া মানুষ এই হিংসায় মারা যান।এতো মানুষের মৃত্যু কি ভাবে হলো – তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি এবং প্রশাসনের পরস্পরবিরোধী কথা আছে।রাজনৈতিক দলগুলি একে অপরকে দুষছেন।স্থানীয় মানুষের একটা বড়ো অংশ অতি সাধারণ দুই ফুচকা বিক্রেতার নির্মম মৃত্যুর জন্যে আঙুল তুলছেন পুলিশের দিকে।তাঁদের পরিস্কার কথা; পুলিশের গুলিতেই রাজনীতির পরিবৃত্তের বাইরে থাকা ওই দুজন হত দরিদ্র মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।পুলিশ সরাসরি তাঁদের গুলিতে ওঁদের মৃত্যুর কথা স্বীকার না করলেও, শূণ্যে গুলি চালানোর কথা অস্বীকার করে নি।
গোটা কাঁকিনাড়া র বিস্তীর্ণ অঞ্চলে গত প্রায় দেড় মাস ধরে যে রাজনৈতিক সংঘর্ষ চলছে, যে সংঘর্ষকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিতেও একাংশের রাজনীতিকরা তৎপর — সেই এলাকার মানুষ গোলমাল শুরু হওয়ার প্রথম একটা দুটো দিন কার্যত অনাহারে কাটিয়েছে।শিশুপথ্য টুকু ও তাঁদের জোটে নি।সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের ঘরে এক দু দিনের উপযোগী চাল,আটা,আলু ইত্যাদি কমসে কম মজুত থাকে।প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ রাজনৈতিক সমস্যা- যাই ঘটুক না কেন একটু স্বচ্ছল মানুষদের পক্ষে একটা দুটো দিন রোজগারপাটি বন্ধ হলে বা বাজার পত্তর না করতে পারলে একদম উপোষ করে থাকতে হবে না।
কাঁকিনাড়ার নয়াবাজার সহ যে বিস্তীর্ণ এলাকায় গত দুমাস ধরে অশান্তি চলছে, সেই এলাকার বেশিরভাগ মানুষের ই সকালে খাওয়া জুটলেও রাতের খাবারের সঞ্চয়টুকু পর্যন্ত তাঁদের থাকে না।এখানকার বেশির ভাগ মানুষ, যাঁদের ভিতর হিন্দি- উর্দুভাষী ।কোনো একটি মানুষের ও এখানে স্থায়ী রোজগার বলতে কিছু নেই।এই অঞ্চলের উর্দু- হিন্দিভাষী মুসলমানদের যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসেছে,তাঁরাই এঁদের নগ্ন ভাবে নিজেদের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছে।বাম আমলে বামেরা যেমন এঁদের ব্যবহার করেছে ,অথচ এঁদের আর্থ- সামাজিক- সাংস্কৃতিক বিষয়গুলি নিয়ে কিছু করা তো দূরের কথা,ভাবনাচিন্তা সুনির্দিষ্ট ভাবে কিছু করা হয়েছে বলে মনে হয় না।এক ই কথা প্রযোজ্য তৃণমূল কংগ্রেস দল এবং তাঁদের পরিচালিত রাজ্য প্রশাসন সম্পর্কেও সমান ভাবে প্রযোজ্য।
এই হাঅন্ন মানুষগুলো স্থানীয় কলকারখানা তে কাজ প্রায় পান ই না,পেলেও ঠিকে কাজ।স্থায়ী চাকরি এঁদের জোটে না।অসংগঠিত শ্রমিক হিশেবে এঁদের সঙ্গবদ্ধ করার যে নৈতিক দায়িত্ব বাম রাজনৈতিক শিবিরের উপরে বর্তায়, সে দায়িত্ব এঁদের ঘিরে কতোখানি পালন করা হয়েছে- তা ঘিরে গভীর সংশয় আছে।
হিন্দু – মুসলিম নির্বিশেষে কাঁকিনাড়ার গোলমালে সবথেকে বেশি ক্ষতি এই অংশের মানুষদের হয়েছে।গোলমালের শুরু থেকে সেটি প্রায় থেমে যাওয়ার মুহূর্ত পর্যন্ত কোনো রাজনীতিক,কোনো সমাজকর্মী,কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার ,অভিনেত্রী একবার ও উঁকি দিয়ে দেখতে আসেন নি এইসব মানুষ গুলো আদৌ বেঁচে আছেন কি না।সদ্য নির্বাচিত সাংসদ তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসের জায়গা থেকে আক্রান্ত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে শোনা গেছে।বলা বাহুল্য তাঁর বোধের ভিতরে সেখানকার সন্ত্রাসের বলি হাঅন্ন হিন্দি ভাষী হিন্দুরা থাকলেও,হা অন্ন মুসলমানেরা ছিলেন না।
স্থানীয় একজন, দুজন সহৃদয় মানুষ প্রাণের মায়া ত্যাগ করে এখানকার সন্ত্রাস কবলিত এলাকার মুসলমানদের পাশে দাঁড়াবার চেষ্টা করেছেন।সচেতন ভাবেই তাঁরা আক্রান্ত হিন্দুদের মাঝে যান নি,কারন, এলাকার সদ্য নির্বাচিত সাংসদ ই আক্রান্ত হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।যে অংশের রাজনীতিকরা এই এলাকার সংখ্যালঘুদের নিজেদের নগ্ন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছেন এতোকাল ধরে, গোলমালের সময় সেইসব রাজনীতিকদের টিকিটির ও সন্ধান পাওয়া যায় নি।
স্থানীয় যে দু একজন মানুষ প্রাণের মায়া ত্যাগ করে বোমা, গুলির ভিতরে ও নিজেদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে ওইসব মানুষদের জন্যে শুকনো খাবার, বাড়ি থেকে খিচুড়ি তৈরি করে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁরা সামাজিক গণ মাধ্যমে সাধারণ মানুষদের কাছে ওইসব সন্ত্রাস কবলিত মানুষদের জন্যে সাহায্যের কাতর আবেদন জানিয়েছিলেন।গোলমাল থেমে যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিক থেকে শুরু করে অপর্ণা সেন, মীরাতুন নাহার,কৌশিক সেনেরা কৌতুকে করুণায় প্রচারের ঢপ কীর্তনের দলকে অনেক আগে থেকে পথে নামিয়ে এলাকায় বেড়াতে এলেও, ওইসব দু একজন স্থানীয় মানুষের সামাজিক গণমাধ্যমে করা আবেদনের দিকে চোখ ফেরাবার সময়টুকু ও পর্যন্ত বোধহয় পান নি।
যে এক দুজন সন্ত্রাস কবলিত মানুষদের পাশে আগুনজ্বলা সময়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁরা শেষ পর্যন্ত আবেদন করেন রামকৃষ্ণ মিশনের কাছে।রামকৃষ্ণ মিশন এগিয়ে আসতে রাজি হন।তখন সেই এক দুজন ই দলমতের তোয়াক্কা না করে, কে কি ভাববেন– সে সবের পরোয়া না করে সদ্য জয়ী সাংসদ অর্জুন সিংকে জানান রামকৃষ্ণ মিশনের এই ত্রাণ পাঠাবার বিষয়টিকে।সাংসদকে জানাবার আগে তাঁরা অবশ্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে চেষ্টা করেছিলেন বিষয়টি জানাবার।পুলিশের এক , দুটো উটকো ছেলের কথা শোনার সময় কোথায়? ফলে তাঁরা স্থানীয় পুলিশ, প্রশাসন কারো কাছ থেকে ই সাহায্য পাওয়া তো দূরের কথা,ন্যুনতম আশ্বাসটুকু ও পান নি।
পুলিশ বা প্রশাসন না শুনলেও সেই ‘ উটকো ‘ ছেলেদের কথা কিন্তু শুনেছিলেন সেখানকার সাংসদ।তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন; আসুন রামকৃষ্ণ মিশন।তাঁরা ত্রাণ দিন।আমি বা আমার ছেলেরা ওই সাধুদের যথাসাধ্য সাহায্য করব।
কথা রেখেছিলেন সাংসদ।রামকৃষ্ণ মিশন তিন লরি ত্রাণ পাঠান।সেই ত্রাণ মূলত ওই এলাকার হামলাক্রান্ত মুসলমানদের ভিতরে বিতরণ করা হয়।কারন, বিজেপির পক্ষ থেকে আক্রান্ত হিন্দুদের জন্যে ত্রাণ, পুনর্বাসনের কাজ টি তত্ত্বাবধান করছিলেন স্বয়ং স্থানীয় সাংসদ।
স্থানীয় দুই একজনের চেষ্টায় সন্ত্রাস কবলিত এলাকায় রামকৃষ্ণ মিশনের সহযোগিতায় মুসলিম মহল্লায় বা স্থানীয় সাংসদের চেষ্টায় হিন্দু মহল্লায় ত্রাণের ব্যবস্থা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিন্তু সন্ত্রাসের অগ্নিগর্ভ দিন গুলিতে হিন্দু -মুসলিম নির্বিশেষে আক্রান্ত মানুষদের জন্য কোনরকম ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়নি। পুনর্বাসন তো দূরের কথা।
বস্তুত গোটা ঘটনাক্রম ঘিরে স্থানীয় মানুষদের ভিতরে পুলিশকে নিয়ে ক্ষোভ, হতাশা ,যন্ত্রনা এমন একটা জায়গায় পৌঁছে ছিল যে ,প্রশাসনের পক্ষে ও আক্রান্ত মানুষদের ভেতরের ত্রাণের ব্যবস্থা করা বাস্তবিক ভাবে কতখানি সম্ভবপর ছিল তা চিন্তা করে দেখতে হয় ।এইসব ঘটনাক্রম যখন চলতে থাকে, তখন কিন্তু নন্দলালীয় দেশপ্রেমে হাবুডুবু খাওয়া কোন সমাজসেবী, অভিনেতা ,অভিনেত্রী,সাহিত্যিক ,নাট্যকার, কবি ,শিল্পী– কারুর ই টিকিট সন্ধান কাকিনাড়া বা তার আশে পাশে দেখতে পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে আসার পর নৈহাটি অঞ্চলে কতিপয় স্বঘোষিত বাম ,অতি বামেরা ,কার্যত কলকাতা বা আশেপাশের থেকে এসে সন্ত্রাস কবলিত এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে শান্তি মিছিল করেন ।সেই মিছিলে এমন অতি বাম নাট্যকার কে দেখতে পাওয়া যায় যিনি নন্দীগ্রাম পর্বে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ‘দানবীয়তা’র প্রতিবাদে নাট্য একাডেমি ত্যাগ করতে দ্বিধা করেননি ,অথচ পরিবর্তিত রাজনৈতিক অবস্থায় রাজ্যের শাসকদলেরস্থানীয় বিধায়ক এর সঙ্গে বাংলা দন্ত বিকশিত ছবি সামাজিক গণমাধ্যমে দিতেও দ্বিধা করেননি।
কাঁকিনাড়াতে সন্ত্রাসের পর বাম ও কংগ্রেস দলের শীর্ষ নেতারা কাঁকিনাড়া স্টেশন থেকে ভাটপাড়া থানা পর্যন্ত মিছিল করেছেন। বাইরের বহু মানুষ সেই মিছিলে অংশ নিলেও স্থানীয় বেশ কিছু মানুষ সেই মিছিলে ছিলেন। বিজেপি ছাড়া রাজ্যের প্রায় সবকটি বিরোধীদলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে এই মিছিল প্রশাসনের ও খানিকটা টনক নড়াতে বাধ্য করে। এলাকা ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে উঠতে শুরু করে। রাজনৈতিক সংঘর্ষের জেরে বেঘোরে প্রাণ যাওয়া দুই নিরীহ ফুচকা বিক্রেতা দের প্রতিটি পরিবারের হাতে নগদ দশ লক্ষ টাকা করে তুলে দেন স্থানীয় সাংসদ। একটা রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে ধীরে ধীরে এলাকার স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এহেন পরিস্থিতিতে একদা সিপিআই রাজ্য পরিষদের সদস্য তথা প্রবীণ নাট্যকার চন্দন সেনের ব্যবস্থাপনায় অভিনেত্রী অপর্ণা সেন, অভিনেতা কৌশিক সেন সহ একদল সেলিব্রেটি সন্ত্রাস কবলিত এলাকায় আসেন ।তার আগের দিন সন্ত্রাস কবলিত এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে এস ইউ সি আই দলের স্থানীয় কর্মীদের নিয়ে সভা করে যান নিজেকে দলনিরপেক্ষ ‘ স্বাধীন ‘ বুদ্ধিজীবী বলে দাবি করা মীরাতুন নাহার।
অপর্ণা সেনেদের ভ্রমণ পর্বটির গোটা প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েকদিন ধরেই অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সংগঠিত করেন চন্দন সেন। এই ভ্রমণের প্রয়োজনীয় পুলিশ অনুমতির জন্য জমা দেওয়ার উদ্দেশে তিনি স্থানীয় সিপিআই(এম )অফিসে একটি আবেদনপত্র পাঠান। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল,স্থানীয় সিপিআই(এম) নেতৃত্ব যাতে নিজস্ব প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের অনুমতি আদায় করে দেন। এরপর ই আশ্চর্যজনকভাবে স্থানীয় সিপিআই(এম) নেতৃত্ব কে এড়িয়ে চন্দন বাবু তাঁর একদম পকেটের এক দু জন সিপিআই(এম) কর্মীর সাহায্যে গোটা বিষয়টি সংগঠিত করেন।
সেই সিপিআই(এম) কর্মীর ভিতর এমন একজন আছেন, যিনি স্থানীয় এক পৌরসভার কর্মী হিসেবে নানাভাবে নিজের কীর্তিকলাপের ভেতর দিয়ে গোটা বাম রাজনীতিকেই যথেষ্ট অসুবিধার ভিতর ফেলেছিলেন ।তাছাড়াও অপর্ণা সেন দের এই এই সন্ত্রাস কবলিত এলাকায় ভ্রমণ পর্বে চন্দন সেনের ব্যবস্থাপনায় আগাগোড়া উত্তর ২৪ পরগনার একদল সিপিআই নেতাকর্মীকে প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা নিতে ও দেখতে পাওয়া গেছে।
প্রশ্ন হল ; কাঁকিনাড়া যখন ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে আসছে, তখন কোন উদ্দেশ্য নিয়ে অপর্ণা সেন দের এই ভ্রমণ? যদি সত্যিই তাদের ভিতর এলাকায় শান্তি স্থাপন টি মূল লক্ষ্য হতো তাহলে তো ভাগলপুর দাঙ্গার পর গৌরকিশোর ঘোষ যেভাবে দাঙ্গা কবলিত এলাকায় দিনের পর দিন নিজের জীবন উপেক্ষা করে পড়ে থেকে কাজ করেছিলে,ন সেই ভাবে এলাকায় থেকে কাজ করা দরকার ছিল। তা না করে রাজনীতির লোকেদের নামে বিদ্বেষ ছড়িয়ে কোন রাজনীতির সুবিধে করতে অপর্ণা সেন রা কাঁকিনাড়া অঞ্চলে বেড়াতে এসেছিলেন?
কৌশিক সেন এখানে আসার কয়েক দিন আগে তাঁর এক পরিচিত ব্যক্তি কে বলেছিলেন; এলাকার মানুষ নাকি তাঁদের চাইছেন কৌশিকের সেই পরিচিত ব্যক্তিটি তৎক্ষণাৎ তাঁকে উত্তর দেন; ওই সন্ত্রাস কবলিত এলাকার মানুষ, যাঁরা প্রথাগত শিক্ষার আলো আজ একুশ শতকের দ্বিতীয় দশকে পর্যন্ত পান নি ই বলা যেতে পারে, তাঁরা অমিতাভ বচ্চন, হেমা মালিনী ,শাহরুখ খান, আমির খান ,কাজল দের চিনতে পারেন। কৌশিক সেন তো দূরের কথা অপর্ণা সেনের নাম পর্যন্ত তাঁরা জানেন না ,তখন নাকি কৌশিক বলেছিলেন; সামাজিক দায়িত্ব পালনের তাগিদেই তাঁরা যেতে চান ।
সামাজিক দায়িত্ব পালনের তাগিদে কাঁকিনাড়া তে বেড়াতে আসা কৌশিক সেন এটাও নাকি জানতেন না যে ,ব্যারাকপুর কমিশনারেট, যেখানে পুলিশ কমিশনারের কাছে তাঁরা স্মারকলিপি দেবেন, সেই জায়গাটি থেকে সন্ত্রাস কবলিত এলাকাটির ভৌগলিক দূরত্ব ঠিক কতখানি। তাই খুব সহজেই আমরা বুঝতে পারি, নিজেদের সমাজ মনস্কতার অ্যাংরি ইমেজটা বজায় রাখবার কোন তাগিদ থেকে অপর্ণা, কৌশিক দের এই কাঁকিনাড়া সফর।
কারণ, আমরা ভুলে যেতে পারি না যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার অল্প কিছুদিনের পরেই ঘটে যাওয়া কামদুনি কাণ্ডে অকুস্থলে গিয়ে এই কৌশিক সেনেদের ই তাড়াতাড়ি কলকাতায় ফিরে একটি নামি দামী বৈদ্যুতিন গণমাধ্যমে যাওয়ার তাড়াটির কথা ।বৈদ্যুতিন গণমাধ্যম, প্রচার মাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে সমাজের বিরুদ্ধে ,প্রচলিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে গলা ভারী করে, চোখে জল এনে ,নানা ধরনের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সহ গরম গরম কথা বলতে না পারলে অ্যাংগ্রি সমাজসেবক হওয়া যায় না। আর অ্যাংরি সমাজ সেবক হতে না পারলে অভিনেতা, কবি ,সাহিত্যিক, সমাজসেবক হিসেবে নিজেদের বক্স অফিস হিট করানো যায় না। ভাটপাড়া, ভাটপাড়ার মত ঘটনাক্রম আর কতকাল এই সব সংস্কৃতি ব্যবসায়ীদের পণ্য হিসেবে পরিগণিত হতে থাকবে ? হতেই থাকবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *