এ রাজ্যে মোদি-মমতার ভোট প্রচারের কৌশল প্রসঙ্গে

গৌতম রায়

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে আমাদের রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বেশ কয়েকবার এসেছেন। এই বোধ হয় প্রথম দেশের কোনো প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারে সরকারের সাফল্যের ফাঁকা আওয়াজ আর আগামী দিনের ফাঁকা প্রতিশ্রুতি এই ভাবে পাওয়া গেল ।বস্তুত নরেন্দ্র মোদির পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশে যে নির্বাচনী প্রচার , সেই প্রচারে রাজনীতির কথা প্রায় নেই ই। রাজনীতির বদলে সামাজিক বিভাজনকে তীব্র করে তুলে রাজনীতির ফায়দা লোটার যে ভয়ঙ্কর প্রবণতা নরেন্দ্র মোদির গোটা দেশে এবারের নির্বাচনী প্রচারের ভিতর দিয়ে স্থাপিত করলেন ,এমনটা অতীতে স্বাধীনতার পর থেকে ভারতবর্ষের রাজনীতি র প্রেক্ষিতে কোনদিন দেখতে পাওয়া যায়নি ।
প্রধানমন্ত্রী এভাবে সামাজিক বিভাজনের লক্ষ্যে ভয়ঙ্কর রকম ভাবে শাওয়াল করছেন ,এটাও অতীতের ভারতবর্ষ কখনো দেখে নি।ভারত ছাপিয়ে অতীতে বা বর্তমানে পৃথিবীর কোন দেশেও এমনটা দেখতে পাওয়া যায় না।মোদির নির্বাচনী বক্তৃতা একদিকে যেমন আমাদের দেশের প্রবাহমান সংস্কৃতি ,সমন্বয়ী ধারার কৃষ্টি- হিন্দু ,মুসলমান ,খ্রিস্টান, শিখ ,জৈন নির্বিশেষে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্প্রীতি বাতাবরণ কে ভেঙে তছনছ করেছে, অপরদিকে আমাদের দেশের সংবিধানের মূল ঐতিহ্য ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করেছে ।আরএসএস বা তার রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি বা তাদের পূর্বসূরী ভারতীয় জনসংঘ অতীতে ভারতের সংবিধানে র ধর্মনিরপেক্ষতাকে নানাভাবে চ্যালেঞ্জ করলেও দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে কোন ব্যক্তি এভাবে এর আগে কোনদিন ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেন নি ।
সংবিধানের মূল বিষয়বস্তু কে এভাবে অতীতে কোনো প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেশে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেন নি। অটল বিহারী বাজপেয়ী এন ডি এ নামক নীতিবিহীন, সুবিধাবাদী জোটের মাধ্যমে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নিজে ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী না হয়েও প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে এভাবে চ্যালেঞ্জ ঠোকার সাহস করেননি। গত লোকসভা নির্বাচনে আরএসএসের দৌলতে মোদী যে বি জে পির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা র দৌলতে গত পাঁচ বছর যাবৎ দেশ পরিচালনা করলেন, তার নিরিখে তাঁর এই ধারণা জন্মেছে যে, আগামী দিনেও হয়তো এভাবেই তিনি দেশ পরিচালনা করতে পারবেন।
নিজের প্রতি সেই অতিরিক্ত আস্থার দরুণ ই এই নির্বাচনী সংগ্রামের প্রচার পর্বে তিনি নাগপুরি হিন্দুদের বাইরে সমন্বয় চেতনার হিন্দুদের এবং অবশ্যই সংখ্যালঘু মুসলমানদের দিয়ে একটি শব্দ কোথা উচ্চারণ করলেন না।
মোদী পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে বেশ কয়েকবার এসে এ রাজ্যে তাঁর স্বাভাবিক মিত্র তৃণমূল কংগ্রেস এবং তাঁদের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করে দেওয়া’ প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতা’র ফসল দুহাত ভরে কুড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেন। মোদির উগ্র হিন্দুত্বকে একটা চরম পর্যায়ে পৌঁছে দিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ক্ষেত্র প্রস্তুত করে রেখেছিলেন, সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে নরেন্দ্র মোদী রাজ্যে এসে সেই ক্ষেতে ফসল ফলানোর সবরকম চেষ্টা করে গেলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজীবিবি চরিত্রের অভিনয় কতখানি সফল হয়েছে তা কার্যত বুঝতে পারা যাচ্ছে চলতি লোকসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে হিন্দু সম্প্রদায়িক শিবিরের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক প্রচারের ভেতর দিয়ে।
আরএসএসের বিভিন্ন শাখা সংগঠন গুলি অত্যন্ত কৌশলে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে মমতা কি আদৌ হিন্দু এই প্রশ্ন সুকৌশলে তুলে সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের ভেতরেও সাম্প্রদায়িকতার ভয়াবহ বিষকে অত্যন্ত কৌশলে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হচ্ছে। মমতার মুসলিম প্রীতির অভিনয় যে কি ভয়াবহ রকম ভাবে হিন্দু সাম্প্রদায়িক শিবিরকে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি সাম্প্রদায়িকতাকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ রকম সহায়ক ভূমিকা পালন করছে তা এই নির্বাচনী প্রচার পর্বে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।
প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতাকে একটা চরম সুরে বেঁধে দিয়ে মমতা যেভাবে উগ্র হিন্দুত্ববাদী শিবিরকে এ রাজ্যের আনাচে-কানাচে তাদের বিষাক্ত নখের থাবা বসাতে সাহায্য করছেন, আগামী দিনে কেবল পশ্চিমবঙ্গে নয়, গোটা পূর্বাঞ্চল তথা ভারতবর্ষে তা এক ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনবে । মমতা একদিকে হাজী বিবি সেজে অভিনয় করছেন। ওয়াকফের টাকা দিয়ে মুসলমান সমাজে নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসের পেটোয়া একটা ছোট অংশের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা দেওয়ার ভেতর দিয়ে একদিকে মুসলমান সমাজে নিজেদের মধ্যেই নিজেদের লরিয়ে দিচ্ছেন ।
অপরদিকে হিন্দু সমাজের সাম্প্রদায়িক অংশকে তো উৎসাহিত করছেন ই,যাঁরা সাম্প্রদায়িক নন অথচ বিশেষভাবে রাজনৈতিক সচেতনতা ও তাঁদের মধ্যে নেই ,সেই অংশের মানুষের ভিতর সাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনাকে ধীরে ধীরে জাগিয়ে তুলেছেন মমতা।
সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ রাজ্যে এসে যেভাবে নিছক ভোটের স্বার্থে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক মেরুকরণে নিজে উৎসাহ দিয়ে গেলেন ,তার নজির গোটা বিশ্বে পাওয়া যায় না। দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী বক্তৃতায় কেবলমাত্র একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের কথা বলছেন, বাকি অন্য কোন সম্প্রদায়ের কথা বলছেন না, এমনটা কিন্তু এর আগে কোনদিন ভারতবর্ষে দেখতে পাওয়া যায়নি। আজ পর্যন্ত এই সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে নরেন্দ্র মোদী এই রাজ্যে যে ক’টি সভা করেছেন তার প্রত্যেকটি তেই তিনি কেবলমাত্র হিন্দু সম্প্রদায় কে নিয়ে তাঁর চিন্তা, উদ্বেগ, সম্ভাবনা, প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। এর পাশাপাশি সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায় সম্পর্কে প্রত্যেকটি সভাতেই পালন করে গেছেন আশ্চর্যজনক নীরবতা। শিখ,খ্রিষ্টান,পার্শি,জৈন ইত্যাদি ভারতের অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সম্পর্কে ও একই রকম নীরবতা পালন করেছেন ।
দেশের প্রধানমন্ত্রীর এ হেনো পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং সরাসরি সাম্প্রদায়িক বিভাজনে উৎসাহ দেওয়া এক ভয়াবহ ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে যে আবেগ যেরকম ভাবে কাজ করে ,সেখানে সেই রকম আবেগে তা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের যে ধরনের প্ররোচনা দিয়ে গেলেন এবং তার উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে পাল্টা প্ররোচনা দিয়ে চলেছেন তার নজির স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের এ রাজ্যের নির্বাচনের ইতিহাসে ঘটে নি।
গত দু’বছর আগে নিজেদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপিকে এই রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে আরো গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে দাঙ্গা করেছিল আর এস এস ।ধুলাগর, হাজিনগর, বাদুড়িয়া, বসিরহাট, চন্দননগর, কালিয়াচক ইত্যাদি বহু জায়গায় বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিতে সামাজিক বিভাজনের স্বার্থে এ দেশে ভয়াবহ দাঙ্গা করে আর এস এস ।প্রত্যেকটি দাঙ্গা তেই বিজেপির ‘স্বাভাবিক মিত্র’ তথা রাজ্যের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস পর্দার আড়ালে থেকে সেই দাঙ্গা সংঘটিত হতে সব রকমের সাহায্য করে ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গত ৮বছরের শাসনকালে এরাজ্যে ৬০ টির ও উপরে দাঙ্গার ঘটনা ঘটলেও আজ পর্যন্ত রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওইসব দাঙ্গার মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা এফআইআর পর্যন্ত করা হয়নি । তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে বি জে পির এজেন্ট হিসেবে মুকুল রায় যখন অবস্থান করছিলেন ,সেই সময় কার্যত মুকুলবাবুর নেতৃত্বে হাজিনগরে দাঙ্গা হয়েছিল ।সেই দাঙ্গায় প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছিল আরএসএস ।সেখানে সঙ্ঘের সহযোগী সংগঠন গুলি নীরব সমর্থন জানিয়েছিল রাজ্যের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন সেই দাঙ্গা সম্বন্ধে আজ পর্যন্ত কোন ন্যূনতম প্রশাসনিক উদ্যোগ নৈন নি। হাওড়ার ধুলাগড় দাঙ্গা হয়েছিল ;সেই দাঙ্গায় সরস্বতী পূজা উদযাপন এবং নবীজির জন্ম দিবস পালন এই দুটি ঘটনা অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছিল । ধুলাগরে সরস্বতী পূজা পালনকে ঘিরে যে জলঘোলা হয়েছিল তা ঘটিয়েছিল কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের ই একটা বড়ো অংশ। অথচ সেই ঘটনাটিকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসে দাঙ্গার পরিবেশ তৈরি করে সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর সামাজিক – অর্থনৈতিক অত্যাচার চালিয়েছিল আরএসএস -বিজেপি ।মজার কথা হল এই যে; চলতি লোকসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে এ রাজ্যে এসে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের স্বার্থে দাবি করেছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ রাজ্যে হিন্দুদের সরস্বতী পুজো,দুর্গা পুজো করতে দেন না।
যদি সত্যি ই ধর্মনিরপেক্ষ একটি দেশে সরস্বতী পুজো বা দুর্গা পুজো পালনে দেশের একটি অঙ্গ রাজ্যের প্রশাসন এবং শাসক দল বাঁধা সৃষ্টি করে থাকে, তাহলে ধর্মনিরপেক্ষতার স্বার্থে তখন কেন কেন্দ্রীয় সরকার হস্তক্ষেপ করেন নি? মোদি কি অপেক্ষা করছিলেন, ভোট আসুক।তখন ভোট পাওয়ার স্বার্থে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে মমতা সম্পর্কে তাঁর তোলা অভিযোগ ঘিরে তখন তিনি রাজনীতি করবেন,সেই জন্যে? আইন শৃঙ্খলা রাজ্য তালিকা ভুক্ত।তাই মমতা জামানায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার বা দেশের প্রধানমন্ত্রীর কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সাংবিধানিক জটিলতা আছে।কিন্তু দেশের সংবিধানের অন্যতম মূল স্তম্ভ ধর্মনিরপেক্ষতা যদি বিঘ্নিত হয়, তাহলে তো কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে কোনো সংবিধানগত বাঁধা নেই।তাই মোদির অভিযোগ যে কেবলমাত্র ভোটের লক্ষ্যে এ রাজ্যের সামাজিক বিভাজনেয রেখাটি আরো তীব্র হয়ে উঠুক,তাঁর এই গোপন দুরভিসন্ধি টি বুঝতে সাধারণ মানুষের এতোটুকু সমস্যা হয় না।
লোকসভা নির্বাচনে নিজের দল বিজেপির পালে হাওয়া আনতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক প্ররোচনার জবাবে এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু আদৌ ধর্মনিরপেক্ষতার পথ অবলম্বন করছেন না। মোদির সাম্প্রদায়িক প্ররোচনার জবাবে তিনি সাম্প্রদায়িক প্ররোচনাই দিচ্ছেন। কে কত বড় হিন্দু তার জন্য যেন একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে মোদি আর মমতার ভেতর।
আমাদের এই রাজ্যে একদিকে মোদি বলছেন ;সরস্বতী পুজো, দুর্গাপুজো ইত্যাদি নাকি মমতা করতে দিচ্ছেন না। সাহিত্য উত্তরাধিকারের ধারাবাহিকতা বজায়কারী দশরথনন্দন রাম কে রাজনৈতি শ্লোগানে পরিণত করেছে আর এস এস এবং তার রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি। সেই স্লোগান উচ্চারণে মমতা নাকি বাধা সৃষ্টি করছেন -এই কথা বলে এক ধরনের সহানুভূতির পরিবেশ তৈরি করে ভোট বাক্স ভরানোর সব রকমের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী ।
অপরপক্ষে কোথায় কখন মোদি দুর্গার ছবির বদলে কালীর ছবি দিয়েছিলেন, তাই মোদি যতো না বড় হিন্দু তার থেকে তিনি নিজে অনেক বড় হিন্দু বলে ভোটের আসর গরম করছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদি যে হিন্দুদের জন্য নানা ধরনের কর্মসূচির কথা বলছেন ,সেই সব মানুষদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন ঠিক অবস্থাতে রয়েছে সে সম্পর্কে কিন্তু একটি শব্দও দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে উচ্চারিত হচ্ছে না। এইসব মানুষদের নিয়ে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার ঘটালেও তাঁদের ভিতর কর্মসংস্থান ,শিক্ষা ,স্বাস্থ্য, বাসস্থান ইত্যাদি জ্বলন্ত প্রশ্নগুলি আজকে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে তা নিয়ে কিন্তু দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে একটি শব্দ উচ্চারিত হয় নি।
একইভাবে মোদি যতো দেব দেবীর নাম করছেন তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেকে আরও বড় হিন্দু প্রমাণ করতে আরো বেশিসংখ্যক দেব দেবীর নাম মমতা উচ্চারণ করছেন।অথচ তাঁর রাজ্যে তাঁর আমলে কর্মসংস্থান কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, বেকার সমস্যা কতখানি তীব্র, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন চর্চার মান কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আজ কোন আকাশছোঁয়া জায়গায় এসে উপস্থিত, সংখ্যালঘু ,আদিবাসী ,তপশিলি জাতি- উপজাতি সহ সামগ্রিকভাবে আমাদের রাজ্যের মানুষের শিক্ষা ,স্বাস্থ্য, চাকরি- বাকরি ,বাসস্থান ইত্যাদির সঠিক অবস্থান ঠিক কোন জায়গায় ,সেই সম্পর্কে কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ থেকে একটি শব্দ এই নির্বাচনী প্রচার পর্বে উচ্চারিত হয় নি।
মোদি এবং মমতা কার্যত যৌথভাবে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে অত্যন্ত সুকৌশলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক প্রশ্নগুলি কে সম্পুর্ণ এড়িয়ে অরাজনৈতিক ,সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী সামাজিক মেরুকরণের প্রসঙ্গ গুলিকেই তীব্র থেকে তীব্রতর করে তুলে নিজেদের রাজনৈতিক আখের গোছানোর চেষ্টায় তৎপর হয়ে উঠেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *