ইতিহাস ক্ষমা করবে না রাহুলকে


গৌতম রায়

ধর্মনিরপেক্ষ শিবিরের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ভেতর দিয়ে সাম্প্রদায়িক বিজেপি কে নির্বাচনে পরাজিত করার প্রশ্নে কংগ্রেস কি আদৌ আন্তরিক ? কংগ্রেসের সাম্প্রতিক কিছু ভূমিকা ঘিরে গোটা ধর্মনিরপেক্ষ শিবিরের মনেই এই প্রশ্ন বড় হয়ে উঠতে শুরু করেছে ।এই রাজ্যে বিজেপি বিরোধী ভোট যাতে ভাগ না হয় , সেজন্য গোটা ধর্মনিরপেক্ষ শিবিরকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রশ্নে বামপন্থীরা কিছু ভাবনা চিন্তা করেছিলেন ।বামপন্থীরা মনে করেন যে, বিজেপির সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দেওয়ার প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতা র ভূমিকা কোন অংশেই কম নয়। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী ভোট যাতে এক জায়গাতে পড়ে সেদিকে নজর দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বামপন্থীরা।
দুঃখের বিষয় হল বামপন্থীদের এই উদ্যোগকে কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গে নয় , দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ও সেভাবে সমর্থনের প্রশ্নে কংগ্রেস দলের মধ্যে নানা ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করেছে। এই সব দ্বিধা দ্বন্দ্বের জেরে দেশের সর্বত্র বিজেপি বিরোধী ভোট ভাগ হওয়ার রোখবার কাজটি সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়নি। বামপন্থীরা তাঁদের এই ভাবনাকে বাস্তবায়িত করবার লক্ষ্যে শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট আন্তরিকতার পরিচয় রাখলেও সেই পরিচয়ের পাল্টা কিন্তু কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দেখানো হয়নি ।
গোটা সাম্প্রদায়িক ও প্রতিক্রিয়াশীল শিবিরই রায়গঞ্জে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম )প্রার্থী মহাম্মদ সেলিম কে হারানোর জন্য আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যাঁকে সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে ,তাঁর সঙ্গে আরএসএসের সম্পর্কের কথা সর্বজনবিদিত ।এরপরও শুনতে পাওয়া যাচ্ছে যে , ওই কেন্দ্রে নাকি দলীয় প্রার্থী দীপা দাশমুন্সির সমর্থনে সভা করবেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী স্বয়ং ।
রাহুলের এই সভায় কতজন মানুষ উপস্থিত হবেন বা কতজন মানুষ রাহুলের কথার দ্বারা প্রভাবিত হবেন — সেই প্রশ্ন ব্যতিরেকেই এই প্রশ্ন তুলতে হয় যে , জাতীয় রাজনীতির বাধ্যবাধকতা অনুভব করা স্বত্ত্বেও কি রাহুল রায়গঞ্জে বামপন্থী প্রার্থী মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে তাঁর দলের প্রার্থী হয়ে এই প্রচার কাজ করছেন ?সংসদে মহম্মদ সেলিমের পরিচয় কি কেবলমাত্র সিপিআই(এম )নেতার মত? সেলিমের পরিচয় কি দলের গণ্ডি কে অতিক্রম করে সামগ্রিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষতার মুখ ওঠেনি? সেলিমের ভূমিকা কি সামগ্রিকভাবে গত সংসদে আরএসএসের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের যাবতীয় সাম্প্রদায়িক ,মৌলবাদী ,ধর্মান্ধ দৃষ্টিভঙ্গির অন্যতম প্রধান সমালোচকের মুখ হয়ে ওঠেনি ?সংসদীয় রাজনীতিতে থেকে শুরু করে মাঠে ময়দানে রাজনীতির ক্ষেত্রে সেলিমের এই দৃঢ় ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা রাখা সংকীর্ণ দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে প্রত্যেকটি ধর্মনিরপেক্ষ, গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের একান্ত কর্তব্য ।
জাতীয় রাজনীতির প্রশ্নে সেলিমের এই ভূমিকাকে স্মরণে রেখে প্রত্যেকটি মানুষের একান্ত দায়িত্ব হলো ধর্মনিরপেক্ষ ভারতবর্ষকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ,দেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান কে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ,দেশের হাজার হাজার ধর্মভিত্তিক ,ভাষা ভিত্তিক, জাতপাত ভিত্তিক সংখ্যালঘু মানুষের স্বার্থরক্ষার তাগিদে মহম্মদ সেলিম কে আবার সংসদে পাঠানো ।সেই তাগিদের ক্ষেত্রে রাহুল যদি বিন্দুমাত্র অন্তরায় হিসেবে দাঁড়ান রাহুলের মনে রাখা উচিত যে আগামী দিনের ইতিহাস কিন্তু তাঁকে ক্ষমা করবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *