কৃষক ও শ্রমিকদের গ্রাম বাংলায় দু মাসের জন্য যৌথ আন্দোলন

 

কৃষক এবং শ্রমজীবীরা এই রাজ্যে যৌথ লড়াই শুরু করেছে ফসলের লাভ জনক দাম, ঋণ মুকুব ও গরিব গ্রামের মানুষের কর্ম সংস্থানের দাবি তে। গঞ্জের হাট এবং বাজার মহল্লা ও এখন প্রবল ভাবে সোচ্চার হয়েছে ক্ষেত মজুরের ন্যায্য মজুরি এবং বঞ্চিত শ্রমিকদের অধিকারের দাবিতে। যেমন কৃষকের দাবি পত্রে সই দিচ্ছেন শ্রমিকরা তেমন শ্রমিকদের কষ্টে তাদের সাথ দিচ্ছেন কৃষকরা। সব স্তরের বিপর্যস্ত মানুষ যখন একসাথে লড়াই এ শামিল হয়েছে, তখন আশা করা যাচ্ছে বেশ জোড়ালো হতে চলেছে এই লড়াই।

কৃষকদের লোকসানের হার বাড়ছে, কেন্দ্রের নীতিতে বিপর্যস্ত হচ্ছে রাজ্য ও দেশের শ্রমিক ভাই।
সর্বভারতীয় কৃষক আন্দোলনের নেতা নৃপেন চৌধুরী জানিয়েছেন যে ১লা জুন থেকে গ্রামে যৌথ আন্দোলন শুরু হয়েছে। রাজ্যের বামপন্থী কৃষক ও ক্ষেত মজুর সংগঠন গুলি ৩১শে জুলাই পর্যন্ত এই আন্দোলন চালাবে, তিনি বৃহস্পতিবার জানান।

ভারতীয় কৃষক আন্দোলনের এই দুই মাস জুড়ে কৃষক সভা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছচ্ছে এবং এই লড়াইয়ের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে। শুধু তাই নয় কৃষক-মারা সরকারের বিরুদ্ধে নিজেদের আন্দোলন মজবুত করতে গ্রামের কৃষক দের থেকেও এক কোটি সই নেওয়া হবে।

২৯ শে জুলাই থেকে ৪ ঠা আগস্ট পর্যন্ত কৃষক দের পাশাপাশি ক্ষেত্র মজুর এবং শ্রমিক কর্মচারীরা সাইকেল মিছিল এবং পদযাত্রার মাধম্যে যৌথ আন্দোলন চালাবে। কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্য সরকার ও এই দুই স্তরের মানুষ কে বিপর্যস্ত করার পিছনে ভীষন ভাবে দায়ী। তাই দুই সরকারের বিরুদ্ধেই এই লড়াই। ধরণা, অবস্থান বিক্ষোভ ও আইন অমান্য কর্মসূচি চলবে এই রাজ্যের প্রতিটি কালেক্টরের সামনে ৯ আগষ্ট। কৃষক সভা, ক্ষেত মজুর ইউনিয়ন ও শ্রমিক সংগঠন গুলি “জেলে ভরো” কর্মসূচি শুরু করবে জেলায় জেলায়। প্রায় পঞ্চাশ হাজার কৃষক লং মার্চ করে মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে মুম্বাই পর্যন্ত। শুধু তাই নয় জোড়ালো কৃষক আন্দোলন হয় মধ্য প্রদেশ, হরিয়ানা, পঞ্জাব, রাজস্থান সহ বিভিন্ন জায়গায়। মধ্য প্রদেশের কৃষক আন্দোলনের সময় প্রায় ৬ জন কৃষক কে গুলি করে বি জে পি সরকার। অন্যদিকে বামপন্থী দের উদ্যোগে দুই বেসরকারি বিল আসন্ন সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে, যার মধ্যে রয়েছে ফসলের লাভজনক দর এবং কৃষকদের ঋণ মুকুব। ১লা আগস্ট সংসদের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ হবে কৃষকদের দাবির পাকাপাকি বন্দবস্ত করার জন্য।

অন্যদিকে শ্রমজীবীরা ১০ আগষ্ট ‘রাত্রি জাগরণ ও অবস্থান বিক্ষোভের” ঘোষনা করেছে। কেন্দ্রীয় সরকার যে ভাবে শ্রমিকদের সুরক্ষা ছিনিয়ে নিচ্ছে, তার বিরুদ্ধে শ্রমজীবী রা “জাগরণ কর্মসূচি” শুরু করেছে। শ্রমিক এবং কৃষক সংগঠন গুলি যৌথ ভাবে সংসদ অভিযানে যাবে ৫ই সেপ্টেম্বর। শুধু সি আই টি ইউ থেকেই ১০ শ্রমিক জমায়েত করবেন এই অভিযানে। জমায়াতের প্রস্তুতি নিচ্ছে কৃষক এবং ক্ষেত মজুর সংঠন গুলি।

বাম জামানার ৩৪ বছর চাষী আত্মহত্যার কোনো চিহ্ন ছিলনা, কিন্তু এখন কৃষক আত্মহত্যা সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, বলেন নৃপেন চৌধুরী। উনি বলেন যে এই সংগ্রামের মাধম্যে গ্রামের সকল কে ঐক্যবদ্ধ করে লড়াই করে তাদের দাবি মেটানোর অঙ্গীকার করছে বামপন্থী কৃষক সংগঠন গুলি।

One thought on “কৃষক ও শ্রমিকদের গ্রাম বাংলায় দু মাসের জন্য যৌথ আন্দোলন”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *