প্রাক মুহূর্তে নজর ফুটবল বিশ্বকাপের দিকে

আর মাত্র ১১ দিনের অপেক্ষা। দীর্ঘ চার বছরের অবসান ঘটিয়ে শুরু হতে চলেছে ফিফা আয়োজিত ২১ তম ফুটবল বিশ্বকাপ। গামি ১৪ই জুন থেকে শুরু হতে চলেছে বিশ্বকাপের অধ্যায়। চলবে ১৫ই জুলাই পর্যন্ত। এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ রাশিয়া। টানা একমাস এই ফুটবল বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে ৩২ টি দেশ এবং ফুটবলের তৃপ্ততা উপভোগ করবে গোটা বিশ্ব।

তবে এবারের বিশ্বকাপে ফুটবল প্রেমীদের জন্য খারাপ খবর হল, এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে দেখা যাবে না ইতালি, হল্যান্ড, চিলি, প্যরাগুয়ের মত দলগুলিকে। নতুন দল হিসাব সংযুক্তিকরণ হয়েছে আইসল্যান্ড এবং পানামা। এছাড়া বহুদিন পর ফুটবল বিশ্বকাপে তালিকাভুক্ত হয়েছে সৌদি আরব, ইজিপ্ট, মরক্কো, পেরুর মত দেশগুলি।

বিশ্বকাপের প্রাকমুহূর্তে কোন দল কতটা তৈরি টা দেখে নেওয়া যাক। দেখে নেওয়া যাক তাদের ড্রেসিংরুমের অন্তকথা।

গ্রুপ- এঃ রাশিয়া, সৌদি আরব, ইজিপ্ট এবং উরুগুয়ে

রাশিয়াঃ- এবারে বিশ্বকাপে আয়োজক দেশ হিসাবে স্থান দখল করেছে রাশিয়া। অতএব ২০১৮ এর ফুটবল বিশ্বকাপে যে একটি চমকপ্রদ পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে বলে আশা করছে রাশিয়াবাসী। দলের মধ্যে স্টার খেলোয়াড় বলতে গোলকিপার ইগোর আকিনফেভ। দলতি দায়িত্বে রয়েছেন কোচ শ্ত্যানিস্ল্যাভ চেরচেসোভ।

সৌদি আরবঃ- ২০০৬ এর পর ২০১৮ এর একুশ তম ফুটবল বিশ্বকাপে এই নিয়ে পঞ্চমবার নাম নথিভুক্ত করিয়েছে সৌদি আরব। এর আগে ১৯৯৪ সালে সুইডেনে বিশ্বকাপ ফুটবলে চমকপ্রদ ফুটবল দক্ষতা প্রকাশ করেছিল সৌদি আরব। তবে এই বিশ্বপকাপে কি কোন ছাপ ফেলতে পারবে কোচ পিতজ্জির দল টা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দলে তারকা খেলোয়াড় বলতে মহম্মদ আল শালাবি।

ইজিপ্টঃ- ১৯৯০ এর পর এবারের বিশ্বকাপে নিজেদেরকে সাজিয়ে নিয়ে রাশিয়ায় উপস্থিত হেক্টর কাপারের দল। একসময় আফ্রিকান দেশগুলির মধ্যে ফুটবলে শক্তিশালী ছিল ইজিপ্ট। ১৯৯০ এর পর থেকে বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা অটুট রেখেছে এই দল। তবে এখন তাদের সেই ফুটবল দক্ষতা কিছুটা কমে গিয়েছে। অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে চোট পেয়েছেন দলের অন্যতম খেলোয়াড় মহম্মদ শালাহ। বিশ্বকাপে শালাহ উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে এখনও।

উরুগুয়েঃ- সাউথ আমেরিকান ফুটবল দলগুলির মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী দল হল উরুগুয়ে। দলটির মধ্যে যেমন রয়েছে লুইস সুয়ারেজ, এডিশন কাভানি এবং দিয়েগো গডিনের মত অভিজ্ঞ প্লেয়াররা। তেমনই নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে ফেড্রিকো ভালভারডে এবং নাতিহান নান্দেজের মত নতুন কিছু প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা। এবারের উরুগুয়ের আকর্ষণীয় খেলোয়াড় সুয়ারেজ এবং কাভানি দুজনেই। দলের কোচ হিসাবে রয়েছেন অস্কার তাবারেজ।

গ্রুপ বিঃ- পর্তুগাল, স্পেন, মরক্কো, ইরান

পর্তুগালঃ- এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ জেতার জন্য মরিয়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগাল। ২০১৬ সালে তার ফাইনাল ম্যাচের পর তারা প্রমান করে দিয়েছিল ইউরোপে তারাই সেরা। এবারের পর্তুগাল দলটির মধ্যে রয়েছে পেপে এবং রোনাল্ডোর মত বিশ্বমানের খেলোয়াড়রা। মাঝমাঠে রোনাল্ডোকে সাহায্যের জন্য রয়েছে জয়াও মৌটিনহো, আন্দ্রে সিলভা, আন্দ্রে গোমস, বারনান্ডো সিলভারা।

স্পেনঃ- ইউরোপীয় ফুটবলের তারকায় ভরপুর স্পেনের দল, এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট। গোলকিপারে রয়েছে ডেভিড ডে গিয়া। ডিফেন্সে সারজিয়ো রামোস, পিকে, কারভাহাল, নাচোর মত দক্ষতাপূর্ণ ফুটবলাররা। মাঝমাঠে ইস্কো, ইনিয়েস্তা, ডি সিলভা অনবদ্য। ফরোয়ার্ডে রয়েছে লুকাস ভাসকাস, দিয়াগো কোস্তা এবং আসেনসিয়োর মত গোলস্কোরারা। এবারের বিশ্বকাপে জয়ের জন্য অনেকটাই এগিয়ে রাখা হচ্ছে স্পেনকে। স্পেনের দায়িত্বে দেল বস্কোর পরিবর্তে রয়েছেন জুলিয়েন লোপাটিগুই। একরাশ প্রত্যাশা নিয়ে রাশিয়ায় স্পেনের ফুটবল পারদর্শিতা দেখতে উৎসুক বিশ্ববাসী।

মরক্কোঃ- ২০ বছর পর আবার বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন ঘটাল মরক্কো। দলে সেরকম তারকা খেলোয়াড় না থাকলেও রয়েছে মেহেদি বেনোটিয়া, হাকিম জিয়েচের মত ক্লাব ফুটবলের নামজাদা খেলোয়াড়রা। দল হিসাবে পরিকল্পনামাফিক পারফরম্যান্স দিতে পারলে বিশ্বকাপে অনেকদুর পর্যন্ত যাবার সম্ভবনা রয়েছে মরক্কোর।

ইরানঃ- ২০১৪ সালে বিশ্বকাপের নির্বাচনী পর্বে কোনরকম হার না মেনে বিশ্বকাপে পৌঁছেছিল ইরান। দলের মধ্যে তারকা খেলোয়াড় সর্দার আজমন। এই নিয়ে মোট পাঁচবার নিজেদের বিশ্বকাপে তালিকাভুক্ত করেছে ইরান।

গ্রুপ সিঃ- ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, পেরু, ডেনমার্ক

ফ্রান্সঃ- ইউরোপিয়ান ফুটবলের কিছু ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে ফ্রান্সের ফুটবল দলটির সাথে। তারকামন্ডিত এবারের ফ্রান্স দলটিও এবারের জয়ের জন্য প্রস্তুত। দলটায় রয়েছে মেন্ডি, ভারানের মত ডিফেন্ডাররা। মাঝমাঠে পোগবা, টোলিসসো, মাতৌদির বাড়ানো বল ফরোয়ার্ডের গ্রিজম্যানকে গোল করার ক্ষেত্রে অনেকটাই সহয়তা করবে। দিদিয়ের দেসচ্যাম্পসের ফুটবল ট্রেনিং ফ্রান্সকে অনেকটাই এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

অস্ট্রেলিয়াঃ- কোয়ালিফায়ার রাউন্ডে অনেক উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে প্রবেশ করেছে এই দলটি। তবে এই নিয়ে পরপর চারবার বিশ্বকাপ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। দলের তারকা বলতে মিলে জেদিনাক।

পেরুঃ- বিশ্বকাপের নির্বাচন পর্বে চিলি, ইকুয়েডোর এবং প্যারাগুয়েকে পিছনে ফেলে ফুটবল বিশ্বকাপে স্থান দখল করেছে পেরু। এদলের বেশীরভাগ ফুটবলারই মেক্সিকোর ক্লাব ফুটবলের সাথে যুক্ত। যেমন, গোলকিপার পেদ্রো গালিসি; ডিফেন্সের লুইস আয়ডভেঙ্কুলা এবং আরও অনান্য ফুটবলাররা। তবে এবারে পেরু দলের তারকা খেলোয়াড় হল পাওলো গুয়েরিরো।

ডেনমার্কঃ- ইউরোপীয় ফুটবলে সবথেকে দ্রুততম পরিবর্তনশীল দল হল ডেনমার্ক। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এর পর থেকে একটানা জয়ের মুখ দেখেছে এই দলটি। দলের তারকা খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো এরিকসেন বর্তমানে দুরন্ত ফর্মে। গ্রুপ লিগে অস্বাভাবিক কিছু আশা করা হচ্ছে ডেনমার্কের তরফ থেকে।

গ্রুপ ডিঃ আর্জেন্টিনা, আইসল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, নাইজেরিয়া

আরজেন্তিনাঃ গতবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে পোঁছানো আর্জেন্টিনা দলটি এবারেও বেশ তরতাজাপূর্ণ। সব থেকে বড় কথা, যে দলটিতে লিওলেন মেসি বর্তমান ,সেই দলটি নিয়ে ফুটবল প্রেমীরা আশাবাদী যে হবেন না তা ভাবা যায় না। তবে এই বিশ্বকাপে সারজিও অ্যাগুয়েরো এবং হিগুয়েনের পারফরমেন্স একটু ভাবাতে পারে। তবে রমেরিয়ো, ম্যাসচেরানো, দি মারিয়াদের মত অভিজ্ঞ প্লেয়াররা আর্জেন্টিনাকে বহুদুর যেতে সাহায্য করবে। সব মিলিয়ে এবারেও আর্জেন্টিনাকে প্রথম চারের মধ্যে রাখছেন বিশেষজ্ঞরা।

আইসল্যান্ডঃ প্রথমবার ফুটবল বিশ্বকাপে প্রবেশ করল এই দলটি। গত ২০১৬ ের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ডকে কোয়ার্টার ফাইনালে পরাস্ত করে সারা ফেলে দিয়েছিল এই দলটি। এবারের বিশ্বকাপে প্রচুর প্রত্যাশা নিয়ে হাজির এই দলটি।

ক্রোয়েশিয়াঃ ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুতবলের বিশেষ কিছু তারকা সম্পৃক্ত দল ক্রোয়েশিয়া। রয়েছে লুকা মডরিচ, মারিও ম্যান্ডজুকিক, ইভান র‍্যাকেটিচ এবং ইভান পেরিসিকের মত উচ্চমানের খেলোয়াড়। বিশ্বকাপের গ্রুপ লিগে এই দলটির থেকে বেশ ঝলমলে পারফরম্যান্স আশা করা যেতে পারে।

নাইজেরিয়াঃ আফ্রিকা থেকে রাশিয়ার বিশ্বকাপের জন্য প্রথম ছাড়পত্র পাওয়া দল নাইজেরিয়া। নানান উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে ওঠা এই দলটি আফ্রিকানদের কাছে ফেভারিট। দলটিতে তারকা বলতে জন অবি মাইকেল এবং দলের দায়িত্বে রয়েছেন গারনেট রোর।

গ্রুপ ই ঃ ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড, কোস্টারিকা, সার্বিয়া

ব্রাজিলঃ- গতবারে জার্মানির কাছে সাত গোলে হারের দুর্বিষহতা এখনও ব্রাজিল সমর্থকদের মন থেকে মুছে যায়নি। তাই ২০১৮ এর বিশ্বকাপ ফুটবলে ঘুরে দাঁড়াতে তৈরি ব্রাজিল শিবির। দলটিতে মারসেলো, দানি আলভেজ, ফিলিপ লুইস, থিয়াগো সিলভা, উইলিয়ান, পওলিনহো, ক্যসিমেরোর মত একঝাঁক তারকা ফুটবলারে ভরপুর। দলের কোচের দায়িত্বে আছেন অ্যাডেনোর বাচ্চি। প্রত্যেক বারের মত এবারও দলটিকে নিয়ে বহু প্রত্যাশা রয়েছে ব্রাজিল সমর্থকদের।

সুইজারল্যান্ডঃ এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ লিগে ভালো ফল প্রদর্শন করতে পারে সুইজারল্যান্ড। বহু নতুন মুখ দেখা যাবে এবারের সুইজারল্যান্ড দলটিতে। তারকা বলতে ভ্যালন বেহরামি এবং তিনিই দলের জ্যেষ্ঠতম খেলোয়াড়। ২০০৯ সালে অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয় সুইজারল্যান্ড। সেই দলের বেশীরভাগ খেলোয়াড়কে দেখা যাবে এই দলে।

কোস্টারিকাঃ গতবারের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয় কোস্টারিকা। এই নিয়ে মোট পাঁচবার বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যাবে কোস্টারিকাকে। দলতির মধ্যে তারকা বলতে গোলকিপার কেলর নাভাস, মাঝমাঠে সেলসো বোরগেস এবং ফরোয়ার্ডে ব্রায়ান রুইজ। তবে দলের সমবেত পারদর্শিতা এবারের বিশ্বকাপে কোস্টারিকাকে বহুদুর নিয়ে যেতে পারে আশা করা হচ্ছে।

সার্বিয়া ঃ আট বছর পর অনেক চড়াই উতরাই টপকে এবারের বিশ্বকাপে হাজির সার্বিয়া। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ লিগে সর্বাধিক গোলের দাবীদার সার্বিয়া। ওয়েলস এবং আয়ারল্যান্ডের মত দলকে মোট ২০ টি গোল হজম করতে হয়েছে সার্বিয়ার কাছে। ব্রেনস্ল্যাভ ইভানোভিচের মত ডিফেন্ডার রয়েছে এই দলে। যা বিশ্বকাপে সার্বিয়ার গতিপথ আরও মসৃণ করতে সাহায্য করবে।

গ্রুপ এফঃ জার্মানি, মেক্সিকো, সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়া

জার্মানিঃ গতবারের চ্যাম্পিয়নরা এবারেও চ্যাম্পিয়ন হতে প্রস্তুত। দলকে নিখুঁত ভাবে পরিচালনা করে বেশ শক্তপোক্ত করে তুলেছেন কোচ জয়াকিম লো। গতবারের চ্যাম্পিয়ন দলের বেশীরভাগ খেলোয়াড়কে দেখা যাবে এই দলে। গোলকিপার ম্যানুয়েল নায়ার থেকে শুরু করে ডিফেন্সে বোটাং, হ্যামেলস এবং মাঝমাঠ এবং ফরোয়ার্ডে থাকবে ড্যাক্সলার, সামি খেদিরা, টনি ক্রুশ, ওজিল সবাই থাকছে এই দলে। সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে গত বারের মত এবারেও যে কোন দলকে টক্কর দেওয়ার জন্য প্রস্তুত জার্মানি।

মেক্সিকোঃ ফুটবল বিশ্বকাপে বহুবার খেলার সুযোগ পেলেও নিজেদের পথ কখনই প্রসারিত করতে পারেনি মেক্সিকো। গতবারের বিশ্বকাপে ভালো ফল করলেও শেষে পরাজিত হতে হয় মেক্সিকোকে। মেক্সিকোর তারকা খেলোয়াড় বলতে জাভিয়ার হারনান্ডেজ। এবারের বিশ্বকাপে মেক্সিকোর পথ কিছুটা প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সুইডেনঃ জাল্টান ইব্রাহমিচের ছত্রছায়ায় কিছু বছর ধরে ফুটবল বিশ্বে চমকপ্রদ রুপে পাওয়া গেছে সুইডেনকে। জাতীয় ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন ইব্রাহমিচ। তাই এবারে সুইডেনের তরফ থেকে সেই ফুটবল দক্ষতা আবার ফিরে নাও আসতে পারে। আই বিশ্বকাপে সুইডেনের আরকা বলতে এমিল ফোরসবারগ। প্রশ্ন রইল ২১ তম ফুটবল বিশ্বকাপে সুইডেনের পারফরম্যান্স নিয়ে।

দক্ষিণ কোরিয়াঃ ১৯৮৬ এর পর থেকে প্রত্যেকবার ফুটবল বিশ্বকাপে স্থান দখল করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে বিশ্বকাপে কখনও প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি তারা। তবে এবারের দক্ষিণ কোরিয়ার এই দলে রয়েছে সং হুয়াংমিন, কি সুং ইয়েং এবং লি চুং ইয়াঙ এর মত পারদর্শী ফুটবলাররা। আশা করা হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া চমকপ্রদ কিছু ঘটাতে পারে।

গ্রুপ জিঃ বেলজিয়াম, পানামা, টিউনিশিয়া, ইংল্যান্ড

বেলজিয়ামঃ ইউরোপিয়ান তারকায় ভরপুর বেলজিয়াম দলটি গ্রুপ লিগে চমকপ্রদ কিছু ঘটানোর দাবীদার। দলটির মধ্যে রয়েছে থিবাট কোটাসের মত গোলকিপার। ভিনসেন্ট কোম্পানির ডিফেন্স। মাঝমাঠে ফিলেনি এবং কেভিন দে ব্রুয়েন্সের মত খেলোয়াড়। সব শেষে বলা যায় বেলজিয়ামের এই দলটির থেকে চমকপ্রদ ঘটনার আশাবাদী ফুটবল বিশ্ব।

পানামাঃ প্রথমবার ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রন করে ইতিহাস তৈরি করল পানামা। দলটিতে দুর্দান্ত এক ফরোয়ার্ড রয়েছে, নাম লুইস তেজদা। যিনি পানামার হয়ে এখনও অবধি ৪৩ টি গোল করেছেন। এবারে রাশিয়ায় তার থেকে বড় কিছু পাওয়ার আশা রাখছে পানামাবাসি।

টিউনিশিয়াঃ বিশ্বকাপের নির্বাচন পর্ব থেকেই অপরাজিত রয়েছে টিউনিশিয়া। দলটির থেকে বড় কিছু আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ওয়াবি খাজারি, ইয়েমেন আব্দেনুরের মত তরতাজা কমবয়সী খেলোয়াড়রা রয়েছে এ দলে। তবে এ দলের আকর্ষণীয় খেলোয়াড় জোসেফ ম্যাকিনসি। যিনি টিউনিশিয়াকে বিশ্বকাপ অবধি পৌঁছে দিয়েছেন।

ইংল্যান্ডঃ গত কিছু বছর যাবদ ইংল্যান্ডের ফুটবল পারফরম্যান্স তাদের ফ্যানেদের আরও বেশি করে হতাশ করে তুলছে। প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়দের নিয়েও দল বানিয়ে কোন ফলপ্রসু হয়নি তারা। এবারে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্সে নজর থাকবে হ্যারি কানের উপর। কারণ চলতি মরসুমে ক্লাব ফুটবলে কিছুটা ছন্দে দেখা গিয়েছে তাকে। গ্যারেথ সাউথগেট এর কোচিং এবার হয়তো ইংল্যান্ডের ফ্যানেদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে।

গ্রুপ এইচঃ পোল্যান্ড, সেনেগাল, কলোম্বিয়া, জাপান

পোল্যান্ডঃ ২০০৬ এর পর আবার ২১ তম বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণ করল পোল্যান্ড। পোল্যান্ড থেকে একাধিক মানুষের সমাগম ঘটে রাশিয়ায়। তাই রবার্ট লিওনাস্কি তার ফুটবল পারদর্শিতার কিছু অংশ দেখা যাবে রাশিয়ায়। ২০১৬ এর ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার ফাইনালের পেনাল্টি পর্বে পর্তুগালের কাছে হার হয় পোল্যান্ডের। এবারের বিশ্বকাপে বড় কিছু আশা রয়েছে পোল্যান্ড বাসীর।

সেনেগালঃ ২০০২ এর পর আবার ২০১৮ এর ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা দখল করল সেনেগালরা। কিছু নাটকীয় মুহূর্তের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের দোরগোড়ায় সেনেগাল। দলে রয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে লিভারপুলের গোলস্কোরার সাদিয়ো মানে। অতএব চলতি মরসুমে তুখর ফর্মে থাকা সাদিয়ো সেনেগালকে বহুদুর যেতে সাহায্য করতে পারে।

কলোম্বিয়াঃ গতবারের বিশ্বকাপে দারুন ছাপ তৈরি করেছিল কলম্বিয়ান ফুটবলাররা। কিন্তু তাদের যাত্রা কোয়ার্টার ফাইনালে সমাপ্ত হয়। দলের অ্যাটাকিং এ থাকা অন্যতম ফুটবলার জেমস রডরিগেজ চলতি মরসুমে দারুন ছন্দে। আরও একবার অভাবনীয় ফুটবলের প্রদর্শন দেখা যেতে পারে কলোম্বিয়ার কাছ থেকে।

জাপানঃ প্রত্যেকবারের মত এবারেও বিশ্বকাপে কিছু অভূতপূর্ব ফুটবল প্রদর্শন রাখতে চলেছে জাপান। জাপানের সিঞ্জি খাগওয়া এবং সিঞ্জি ওকাজাকি দের মত ফুটবলারদের কাছ থেকে প্রত্যাশা রয়েছে জাপান ফুটবল ফ্যানদের। দলটি এই মুহূর্তে কিছু তরতাজা খেলোয়াড়ে ভরপুর। গ্রুপ লিগে জাপানের থেকে বড় কিছু আশায় রইল ফুটবল বিশ্ব।

আগামী ১৪ ই জুন থেকে শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ। এই মুহূর্তে দলগুলির মধ্যে চলছে প্রস্তুতির রমরমা। আরও একবার ভুলগুলিকে শুধরে নিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে প্রস্তুত প্রত্যকেটি দল। ফুটবলের তৃপ্তিদায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে রাশিয়ার সাথে প্রস্তুত গোটা বিশ্ববাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *